Friday, November 5, 2021

ছুটির দিনে অতিথি আপ্যায়ন

 

ছুটির দিন মানেই জম্পেস আড্ডা, খাওয়াদাওয়া আর পরিবারের সবার সাথে সময় কাটানো। অতিথিরও আগমান হয় অনেকের বাড়িতে। কারণ, সপ্তাহের এ দিনটিতেই পাওয়া যায় অবসর। তাই ছুটির দিনে অতিথি আপ্যায়নে রান্নায় যেন থাকে নতুনত্ব। পাঠকদের জন্য মজাদার ৩টি মুরগির রেসিপি দিয়েছেন তাসনিয়া রহমান সৃষ্টি।

murgir badami roastমুরগির বাদামি রোস্ট

মুরগির বাদামি রোস্ট

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • মুরগি ১ টি (১ কেজি)
  • পেঁয়াজ কুঁচি ১ কাপ
  • পেঁয়াজ বাটা ৩ টেবিল চামচ
  • আদা বাটা ১ চা চামচ
  • রসুন বাটা ১/২ চা চামচ
  • টক দই ১/৪ কাপ
  • পোস্ত বাটা ১ চা চামচ
  • চিনা বাদাম বাটা ১ চা চামচ
  • কাঠবাদাম ও পেস্তাবাদাম কুঁচি ২ টেবিল চামচ
  • গরম মসলা গুঁড়া ১ চা চামচ
  • মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ
  • এলাচি ৩ টি
  • দারুচিনি ২ টুকরা
  • তেজপাতা ১ টি
  • আলু বোখারা ৩ টি
  • কাঁচামরিচ ৫/৬ টি
  • চিনি ১ চা চামচ
  • তেল ৩ টেবিল চামচ
  • ঘি ৩ টেবিল চামচ
  • মাওয়া ১/২ কাপ
  • বাদাম কুঁচি ২ টেবিল চামচ
  • লবণ স্বাদমতো
  • খাবার রঙ সামান্য

murgir badami roastমুরগির বাদামি রোস্ট

প্রস্তুত প্রণালী
কড়াইতে তেল ও ঘি গরম করে মুরগি হালকা ভেজে নিতে হবে। ভাজা মুরগি একটি পাত্রে তুলে রাখতে হবে। অন্য একটি পাত্রে টক দই, বাটা মসলা ও সমস্ত গুঁড়া মসলা একসঙ্গে অল্প পানি দিয়া গুলে নিতে হবে। একই কড়াইতে পেঁয়াজ কুঁচি হালকা বাদামী করে ভেজে গুলে রাখা মসলা দিয়ে কষিয়ে ভেজে রাখা মুরগি দিয়ে আরো কিছুক্ষণ কষিয়ে নিতে হবে। পরিমাণমতো পানি দিয়ে কড়াইয়ের ঢাকনা বন্ধ করে দিতে হবে মুরগি সিদ্ধ হবার জন্য। মুরগি আধা সিদ্ধ হলে আলু বোখারা, কাঁচা মরিচ, চিনি ও লবণ দিয়ে নেড়ে আরো কিছুক্ষণ ঢেকে দিতে হবে। মুরগি সিদ্ধ হয়ে আসলে বাদাম, পেঁয়াজ বেরেস্তা, মাওয়া বা ইচ্ছামতো সাজিয়ে পোলাও, পারাটার সাথে পরিবেশন করুন দারুণ মজার ‘মুরগির বাদামি রোস্ট’।

bhindi pulaoবিন্দি পোলাও

বিন্দি পোলাও

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • যেকোন মাংসের কিমা ২ কাপ
  • গোলমরিচ গুঁড়া ১ টেবিল
  • আদা বাটা ১ চা চামচ
  • রসুন বাটা ১ চা চামচ
  • গরম মসলার গুঁড়া ১ চা চামচ
  • কিশমিশ বাটা ১ টেবিল চামচ
  • বাদাম বাটা ১ টেবিল চামচ
  • বেরেস্তা বাটা ১ টেবিল চামচ
  • ডিম ১ টি
  • কর্ণফ্লাওয়ার পরিমাণমতো
  • বাসমতি চাল সিদ্ধ ২ কাপ
  • গাজর ৩ টেবিল চামচ
  • হলুদ ক্যাপসিকাম ৩ টেবিল চামচ
  • কাজুবাদাম ১০/১২ টি
  • পেঁয়াজ কুঁচি ২ টেবিল চামচ
  • কাঁচা মরিচ ১০/১২ টি
  • তারা মসলা ১ টি
  • তরল দুধ ১ কাপ
  • লেবুর রস ১ টেবিল চামচ
  • বাটার ৩ টেবিল চামচ
  • লবণ ও চিনি স্বাদমতো

bhindi pulaoবিন্দি পোলাও

প্রস্তুত প্রণালী
কিমার সাথে গোল মরিচ, গরম মসলা গুঁড়া, বাদাম, কিশমিশ, আদা, রসুন, বেরেস্তা বাটা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে মেখে ১৫ মিনিট রেখে দিতে হবে। এবার ডিম ও কর্ণফ্লাওয়ার মেখে ছোট ছোট বল তৈরি করে অল্প পানিতে সিদ্ধ করে পানি শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর হাঁড়িতে বাটার গরম করে তারা মসলা ও পেঁয়াজ কুঁচি ভেজে সবজি মুরগির বল দিয়ে কিছুক্ষণ রান্না করতে করে নিবেন। দুধে লেবুর রস ও চিনি মিশিয়ে রাখতে হবে। এ পর্যায়ে হাঁড়িতে সিদ্ধ করা বাসমতি চাল, বাদাম ও কাঁচা মরিচ দিয়ে মিশিয়ে দুধের মিশ্রণ দিয়ে মৃদু আঁচে ১৫ মিনিট ঢেকে পোলাও দমে বসিয়ে রাখুন। সবশেষে ঢাকনা খুলে পরিবেশন পাত্রে ঢেলে পছন্দমতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন মুখরোচক ‌‘বিন্দি পোলাও’। 

murgir rangin kababমুরগির রঙিন কাবাব

মুরগির রঙিন কাবাব

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • মুরগির কিমা ২ কাপ
  • লাল, হলুদ ও সবুজ ক্যাপসিকাম কিমা ১/৪ কাপ
  • আদা বাটা ১ চা চামচ
  • রসুন বাটা ১ চা চামচ
  • পুদিনা পাতা বাটা ১ টেবিল চামচ
  • কাঁচা মরিচ বাটা ১ টেবিল
  • জায়ফল, জয়িত্রী ও দারুচিনির গুঁড়া ১/৪ চা চামচ
  • ঘি ২ টেবিল চামচ
  • কর্ণফ্লাওয়ার পরিমাণমতো
  • ডিম ১/২টি
  • লবণ স্বাদমতো

murgir rangin kababমুরগির রঙিন কাবাব

প্রস্তুত প্রণালী
মাংসের সাথে আদা, রসুন, পুদিনা পাতা, কাঁচামরিচ বাটা, গরম মসলার গুঁড়া ও লবণ মেখে ১৫ মিনিট রেখে দিতে হবে। এবার ক্যাপসিকাম, ডিম ও কর্ণফ্লাওয়ার মিশিয়ে হাতে ঘি মেখে পানের মতো আকৃতি দিয়ে কাবাবগুলো তৈরি করে ফ্রিজে ১৫ মিনিট রেখে দিতে হবে যাতে করে কাবাবগুলো একটু শক্ত হয়। এর ফলে ভাজার সময় ভেঙে যাবে না। এবার পাত্রে ঘি গরম করে কাবাবগুলো মৃদু আঁচে ভেজে পছন্দমতো সাজিয়ে নিয়ে পরিবেশন করুন সুস্বাদু ‘মুরগির রঙিন কাবাব’।

ত্বকের বয়স কমাবে যেসব উপাদান

 

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বয়সের ছাপ মুখের ওপর জ্যামিতিক রেখা আঁকতে শুরু করে। চুলে রূপালি রেখা যেমন দেখা দেয় তেমনি চোখের আশপাশে, ঠোঁটের ভাঁজেও ধীরে ধীরে ডানা মেলতে থাকে বয়স। এই অবশ্যম্ভাবী প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দিয়ে যৌবন চিরতরে ধরে রাখার কোনো উপায় এখনও মানুষের জানা নেই কিন্তু কিছু প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই মুখের ত্বক দীর্ঘকাল কমনীয় ও মোলায়েম রাখা যেতে পারে। 

middle aged woman skinবয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে কোলাজেন তৈরির স্বাভাবিক ক্ষমতা কমে আসে, ফলে ত্বক বুড়িয়ে যেতে শুরু করে

মুখে বয়সের ছাপ কেন পড়ে 
ত্বকে কোলাজেন নামে একটি যৌগ থাকে, যা ত্বককে টানটান, কোমল রাখে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে কোলাজেন তৈরির স্বাভাবিক ক্ষমতা কমে আসে, ফলে ত্বক বুড়িয়ে যেতে শুরু করে। পাশাপাশি নানা বাহ্যিক কারণেও ত্বক খারাপ হয়ে যেতে পারে। খুব বেশি রোদে থাকলে, প্রাকৃতিক দূষণ, পানি কম পান করলে, ধূমপান-মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে, মানসিক চাপ বা পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবেও ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি মুখের নানা ভঙ্গিমা, ঘুমের সময় বালিশের কারণেও ত্বকে বলিরেখা, দাগছোপ দেখা দিতে পারে।

middle aged woman skinকিছু প্রাকৃতিক উপাদান ত্বকের চিকিৎসায় খুবই কার্যকরী

ডাক্তারের ছুরি-কাঁচি বা বোটক্সের মতো রাসায়নিক ব্যবহার না করেও কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ত্বকের চিকিৎসায় খুবই কার্যকরী। কিন্তু এ উপাদানগুলো ত্বকে নিয়মিত ব্যবহার করলে এটি কার্যকর হতে বেশ সময় নেবে।  হয়তো ত্বকে এর উপকারীতার প্রভাব পড়তে কয়েক মাসও লাগতে পারে। দ্রুত ফলের আশা না করে বরং প্রাকৃতিক উপাদানগুলো নিয়মিত ত্বকে ব্যবহার করুন। 

middle aged woman skinকিছু উপকারী উপাদান আছে যেগুলো ত্বকের বয়স আটকে রাখবে

এক নজরে যে উপাদানগুলো ত্বকের বয়স আটকে রাখবে  

  • বলিরেখার জন্য: রেটিনল, ভিটামিন সি
  • ত্বক ঝুলে যাওয়া জন্য: পেপটাইড, সিরামাইড 
  • বয়স্ক দাগের জন্য: হাইড্রোকুইনোন, রেটিনয়েডস, ভিটামিন সি, কোজিক অ্যাসিড
  •  ত্বকের মৃত কোষ সরাতে: আলফা হাইড্রক্সি এসিড (এএইচএএস), রেটিনয়েডস
  • নিস্তেজ ত্বকের জন্য: আলফা হাইড্রক্সি এসিড (এএইচএএস), রেটিনয়েডস

middle aged woman skinযখন বয়স বাড়ে তখন ত্বকের কোষের কার্যক্ষমতা কমে যায়

বলিরেখার কারণ 
যখন বয়স বাড়ে তখন ত্বকের কোষের কার্যক্ষমতা কমে যায়। জৈবিক ক্ষমতা হ্রাস পায়। বয়স হলে এনজাইম কাজ করা বন্ধ করে দেয়। স্বাভাবিক ত্বকের যে রেখাগুলো থাকে, এগুলো অতি সূক্ষ্ম, দেখা যায় না। যখন এটি স্পষ্ট হয়ে যায়, ত্বকের লেভেল থেকে অনেকটা ভেতরের দিকে যায়, তখন এটি স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হয়। একে সংজ্ঞায়িত করা হয় বলিরেখা হিসেবে। আমরা বলি রিংকেল স্কিন। 

বলিরেখা রোধ করতে করণীয় 
বলিরেখা রোধ করতে রেটিনল ও ভিটামিন সি উপকারী। রেটিনল মূলত ভিটামিন এ থেকে তৈরি। ত্বকের বলিরেখা দূর করতে, টেক্সচার ঠিক করতে, দাগ কমাতে এবং ত্বক পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। সাধারণত গাঢ় সবুজ বা হলদে সবুজ রঙের ফল এবং সবজিতে ভিটামিন এ বেশি পাওয়া যায়। যেমন পালং শাক, মিষ্টি কুমড়া, মিষ্টি আলু, গাজর ও আমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে। 

middle aged woman skinবলিরেখা রোধ করতে ভিটামিন সি উপকারিতা অনেক

বলিরেখা রোধ করতে ভিটামিন সি উপকারিতা অনেক। ভিটামিন সি ত্বক উজ্জ্বল এবং লাবণ্যময় করে তোলে। যার কারণে ত্বকের যেকোন সমস্যা সমাধানে এটি টনিকের মতো কাজ করে। প্রধানত ফল ও কাঁচা সবজি হচ্ছে ভিটামিন সি’র মূল উৎস।  লেবু, কমলা, পেয়ারা, ব্রকোলি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকে। 

middle aged woman skinকিছু প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে মুখের ত্বক দীর্ঘকাল কমনীয় ও মোলায়েম রাখা যেতে পারে

ত্বক ঝুলে পড়ার কারণ
ত্বকে বয়সের ছাপ বাড়াতে ত্বক ঝুলে পড়া অন্যতম। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যেমন- ক্যারোটিনয়েডস, টোকোফেনলস এবং ফ্ল্যাভোনয়েডস, পাশাপাশি ভিটামিন (এ, সি, ডি এবং ই) এবং প্রয়োজনীয় ওমেগা -থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডগুলো ত্বকের ঝুলে পড়া হ্রাস করতে সাহায্য করে। এছাড়া ঝুলে পড়ার অন্যতম কারণ পেপটাইড ও সিরামাইড। এটি ত্বকে প্রাকৃতিকভাবে ঘটে যাওয়া একটি লিপিড। সিরামাইড ত্বকের উপরিভাগে জলরোধী বাধা তৈরি করে।  ফলে ত্বক শুষ্ক, বলিরেখা এবং ত্বকের কিছু প্রদাহ সৃষ্টি করে। 

ত্বক ঝুলে পড়া রোধ করতে করণীয়
ভারতের ন্যাশনাল স্কিন কেয়ার সেন্টার ত্বক যেন ঝুলে না পড়ে সে জন্য কিছু মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে। এগুলো হলো স্ট্রবেরির মাস্ক, শসা ও অ্যাভোকাডোর মাস্ক, টক দই ও ডিমের সাদা অংশের মাস্ক, চালের গুঁড়ার মাস্ক এবং পেঁপের মাস্ক।

middle aged woman skinবয়সের সঙ্গে সঙ্গে ত্বক শুষ্ক, বলিরেখা এবং ত্বকের কিছু প্রদাহ সৃষ্টি করে

ত্বকের বয়সের দাগ হলে কী করবেন 
ত্বকের বয়সের দাগ যাতে না হয় সেজন্য হাইড্রোকুইনোন আছে এরকম পণ্য নিরাপদে ব্যবহার করা যেতে পারে। ত্বকের যেসব স্থানে কালো দাগ পড়ে গেছে সেগুলো এর মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায় এবং তাতে ভালো ফল পাওয়াও সম্ভব- এমনটা বলেছে ব্রিটিশ স্কিন ফাউন্ডেশন। আর কজিক এসিড জাপানে রাইস থেকে আবিস্কৃত হয়েছে। এসিড শুনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, কজিক এসিড একটি প্রাকৃতিক এসিড। কজিক এসিড ত্বকের রোদ এ পোড়া ভাব দূর করে এবং মেলানিন তৈরিতে বাধা দেয়। অন্যদিকে অ্যান্টি-এজিং স্কিনকেয়ার-এ অতি কার্যকরী রেটিনয়েড বা রেটিনল ক্রিম। 

middle aged woman skinভিটামিন-সি উপাদানগুলো ব্যবহারের সঠিক সময় সকালবেলা

কখন ব্যবহার করবেন
ভিটামিন-সি উপাদানগুলো ব্যবহারের সঠিক সময় সকালবেলা। অন্যগুলো যেমন- রেটিনল রাতে ব্যবহার করবেন। কারণ, দিনের আলো এটির কার্যকারীতা কমিয়ে দিতে পারে। যদি আপনি শুষ্ক ত্বক কিংবা নিজেকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে চান, তাহলে প্রতিদিন ক্রিম ব্যবহার করুন। ভালো মানের ক্রিম আপনার ত্বককে আরও কোমল করে তুলবে।

middle aged woman skin রাতে ঘুমানোর পূর্বে প্রথমে রেটিনল এবং শেষে ক্রিম ব্যবহার করুন

যেভাবে ব্যবহার করবেন
সকালে সবার আগে ভিটামিন-সি প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন। এরপর সানস্ক্রিন এবং সবশেষে মেকআপ। আর রাতে ঘুমানোর পূর্বে প্রথমে রেটিনল এবং শেষে ক্রিম ব্যবহার করুন। অন্যদিকে চোখের চারপাশের ত্বক সবচেয়ে কোমল ও সংবেদনশীল। বয়সের ছাপ তাই সবার আগে চোখের চারপাশেই পড়ে। চোখের নিচে বয়সের আঁকিবুকি ঠেকাতে তাই প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে যাওয়ার আগে ভালো আন্ডার আই ক্রিম লাগিয়ে নেবেন।

ইত্তেফাক/আরএম

ভাজাপোড়া খাবার কেন খাবেন না

 

বাঙালির চায়ের সাথে ‘টা’ না হলে একদমই চলে না। আর এই ‘টা’ হচ্ছে পাড়ার দোকানের ছোলা ভুনা, পুরি, সিঙ্গারা, আলুর চপ, সমুচা, বেগুনি, পিঁয়াজি ও পাকোড়া। ডুবো তেলে ভাজা এসব খেতে মজা লাগলেও অধিকাংশ রেঁস্তোরায় নোংরা পরিবেশে সস্তা পাম অয়েলে এগুলো ভাজা হয়। তাই খেলেই চলবে না, খেয়াল রাখতে হবে স্বাস্থ্যের ক্ষয়ক্ষতির দিকেও। তেলের কারণে কলেস্টেরল বেড়ে গেলে কার্ডিওভ্যস্কুলার সমস্যার সূত্রপাত হয়, যার কারণে পরবর্তীতে বেড়ে যায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি।

oily food effectsভাজাপোড়া খাবারের কারণে কলেস্টেরল বেড়ে কার্ডিওভ্যস্কুলার সমস্যা হয়, পরে হয় হার্ট অ্যাটাক

অন্যদিকে, ভাজাপোড়া খাবারে ক্যালরির মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। ফলে খাবারের বাইরের দিকের অংশ আর্দ্রতা হারায় আর ভেতরে শুষে নেয় তেল। ভাজা খাবারের তেলে থাকে ট্রান্স ফ্যাট, যা শরীরে এলডিএলের মাত্রা বাড়ায়। এলডিএল বা ‘লো-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন’ যা খারাপ কোলেস্টেরল হিসেবে চিহ্নিত। যে কারণে ধমনীতে বাধা তৈরি করে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

oily food effectsঅতিরিক্ত ভাজা খাবার খেলে রক্তচাপও বৃদ্ধি পায়

চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি বিষয় প্রমাণিত যে, অতিরিক্ত ভাজা খাবার খেলে রক্তচাপও বৃদ্ধি পায়, যা হৃদরোগ হওয়ার আরেক কারণ। তাছাড়া ভাজা খাবার ওজনও বাড়ায়। এত এত ক্ষতির কারণে ভাজা খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। অনেকেই বলেন বাড়ির খাবারে একঘেয়েমি চলে আসাতে এসব ভাজাপোড়া খাচ্ছন।

oily food effectsভাজাপোড়া খাবারে ক্যালরির মাত্রা অনেক বেড়ে যায়, যা ক্ষতিকর

কিন্তু তেলে ভাজা খাবারে থাকে এক ধরনের অণু, যা অ্যাডভান্সড গ্লাইকেশন এন্ড প্রডাক্ট (এজিই) নামে পরিচিত। এই এজিই শরীরে ঢুকে কোষে প্রদাহ তৈরি করতে পারে। যার কারণে প্রতিরোধশক্তি কমতে শুরু করে। মনে রাখবেন করোনা এখনো যায়নি, তাই নিজেকে সুস্থ রাখার একমাত্র উপায় হচ্ছে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো।

যোগব্যায়াম কি শরীর ও মন সুস্থ রাখে

 

প্রতিদিন সকাল বা সন্ধ্যায় নিয়মিত যোগব্যায়াম বা ইয়োগা শারীরিক ও মানসিক ভাবে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। এতে ওজন কমে, শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ে, হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে। শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি যোগব্যায়ামের গুরুত্বপূর্ন প্রভাব পড়ে মনের ওপর।

yogaমানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও আতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে যোগ ব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকর

গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও আতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে যোগব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকর। নিয়মিত যোগব্যায়াম শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা অনেকটা রুখে দিতে পারে, যা এই শীতকালে খুব দরকার। এবার জেনে নেওয়া যাক কয়েকটি প্রচলিত যোগব্যায়াম সর্ম্পকে।

yogaমেডিটেশনে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করে

মেডিটেশন: মেডিটেশন উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। এটি নিয়মিত করলে আত্মবিশ্বাস ও স্থিরতা ফিরে আসে। মেডিটেশনে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করে। এর ফলে শরীরের মতো মনেরও যত্ন নেওয়া হয়। মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে মনকে শান্ত রাখতে মেডিটেশন করতে পারেন।

yogaউত্তরাসন ব্যায়ামটি করলে শরীরে রক্ত চলাচল ঠিক থাকে

উত্তরাসন: এই ব্যায়ামটি করলে শরীরে রক্ত চলাচল ঠিক থাকে। এছাড়া মস্তিষ্কের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। উত্তরাসন পদ্ধতিতে ব্যায়ামের জন্য প্রথমে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। এরপর শরীরের ওপর দিকটি নীচে ঝুঁকে হাত দিয়ে পায়ের পেছনে স্পর্শ করতে হবে। ৫ সেকেন্ড এভাবে থেকে আবার সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। এভাবে প্রতিদিন ৫ বার উত্তরাসন ব্যায়ামটি করতে পারেন। 

yogaপ্রাণায়ামকে ফুসফুসের ব্যায়ামও বলতে পারেন

প্রাণায়াম: এই ব্যায়াম মানসিক অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে। এটিকে ফুসফুসের ব্যায়ামও বলতে পারেন। প্রাণায়াম করতে প্রথমে সোজা হয়ে বসে নিন। তারপর ধীরে ধীরে নাক দিয়ে লম্বা শ্বাস নিন। একইভাবে ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন। এভাবে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ বার প্রাণায়াম করতে পারেন।  

yogaযোগ ব্যায়ামে ওজন কমে, শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ে, হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে

এছাড়া দীর্ঘ সময় অফিসের কাজে চোখ, ঘাড়, কাঁধ, পিঠ এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে যে ব্যথা হয়, সেগুলো থেকে মুক্তি দিতে পারে যোগব্যায়াম। নিদ্রাহীনতা দূর, মানসিক শান্তি বৃদ্ধি, স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করে দেহের বিশ্রাম এবং হজম প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ, অ্যালার্জিক রাইনাইটিস থেকে মুক্তি, হাঁচি-কাশি নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতিসহ উদ্বেগ দূর করতে, অতিরিক্ত ওজন কমাতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে এবং শক্তিশালী শরীর গঠনে যোগব্যায়ামের বিকল্প নেই।

Thursday, November 4, 2021

যে ৬ কারণে রোজ কমলা খাবেন

 

কমলা বেশ জনপ্রিয় একটি ফল৷ কোমল পানীয় থেকে শুরু করে সামান্য জেলিতেও কমলার ফ্লেভার দেয়াই এর জনপ্রিয়তার কারণ। তবে কমলার ফ্লেভার দেয়া খাবার বাদ দিয়ে কমলা খাওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। ফল হিসেবে কমলা বেশ ভালো। তাছাড়া সাধ্যের ভেতরেই থাকায় কমলা খুবই উপাদেয়। আসুন জেনে নেই কেন প্রতিদিন কমলা খাওয়া আপনার জন্যে উপাদেয়:

প্রচুর ভিটামিন সি পাওয়া যায়

Benefit of eating orangeএকটা কমলা খেলেই দৈনন্দিন ভিটামিন-সি এর চাহিদার ৭০ শতাংশ পূরণ হয়

একটা কমলা খেলেই দৈনন্দিন ভিটামিন-সি এর চাহিদার ৭০ শতাংশ পূরণ হয়। ভিটামিন সি এর অপর নাম এসকরবিক এসিড। আর এতে আপনার ইমিউন সিস্টেমেরও প্রচুর উপকার হয়। কমলা খেলে আপনার শরীরে আয়রনের জোগান দিতেও কমলা উপকারী। দেহে আয়রন খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান। শরীরের ক্ষত সুস্থ করতে, শরীরের রক্তনালিকার গঠনে, তরুণাস্থি গঠনে, এবং কোলাজেন সঞ্চয়ে সাহায্য করে। 

পরিপাকে সাহায্য করে

Benefit of eating orangeকোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও কমলা সাহায্য করে

একটা মাঝারি সাইজের কমলায় প্রায় তিন গ্রাম সমপরিমাণ ডায়াটারি ফাইবার পাওয়া যায়৷ এতে আপনার পরিপাকতন্ত্র ভালো থাকে। তাছাড়া কমলা খেলে শরীরে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও কমলা সাহায্য করে। কমলা খাওয়ার আরেকটি ভালো দিক হলো একটা কমলা খেলে খিদে কম পায়৷ এতে আপনার ঘন ঘন ক্ষুধা লাগবেনা। 

প্রদাহের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে

Benefit of eating orangeকমলায় প্রচুর এন্টি অক্সিডেন্ট থাকে

কমলায় প্রায় ১৭০ রকমের ফাইটোকেমিকেল এবং প্রায় ৬০ রকমের ফ্লেভোনয়েড পাওয়া যায়। এই সকল উপাদান থাকায় দেহে প্রদাহজনিত সমস্যা দূর হয়। তাছাড়া কমলায় প্রচুর এন্টি অক্সিডেন্ট থাকে। ওষুধ খাওয়ার চেয়ে কমলা খেলে প্রদাহের সমস্যায় বেশি উপকার মিলবে। দীর্ঘদিন প্রদাহের সমস্যা থাকলে ক্যান্সার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, বাঁতের মতো সমস্যা হতে পারে। 

ত্বকের যত্নে

Benefit of eating orangeকমলা খেলে ত্বকেরও উপকার হয়

কমলা খেলে ত্বকেরও উপকার হয়। কমলায় প্রচুর বেটা ক্যারোটিন আছে৷ এটি মূলত এক ধরণের পিগমেন্ট যা ত্বকের স্বাভাবিকতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। 

গর্ভবতী অবস্থায়

Benefit of eating orangeগর্ভবতীদের জন্যে প্রতিদিন কমলা খাওয়া স্বাস্থ্যকর

কমলায় ফোলেট নামক উপাদান পাওয়া যায়৷ এটি মূলত কোষ বিভাজনে সাহায্য করে। গর্ভবতীদের জন্যে প্রতিদিন কমলা খাওয়া স্বাস্থ্যকর।

পটাশিয়াম সমৃদ্ধ

Benefit of eating orangeকখনো জিমে ওয়ার্ক আউট করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেলে চট করে কমলা খেয়ে নিন

পটাশিয়ামের জন্যে কলার সুনাম বহুদিনের। কিন্তু কমলাতেও প্রায় ২৪০ মিলিগ্রামের মতো পটাশিয়াম পাওয়া যায়। কখনো জিমে ওয়ার্ক আউট করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেলে চট করে কমলা খেয়ে নিন।

Saturday, January 16, 2021

রোগ প্রতিরোধ করবে বেল

 ফাইল ছবি

 

ফলের মধ্যে বেল একটি উল্লেখযোগ্য ফল। এটি ছোট-বড় সবার কাছে অতি পরিচিত। গরমে বা ঠান্ডায় এক গল্গাস বেলের শরবত হলে নিমিষেই যেন প্রাণ জুড়িয়ে যায়। নানা গুণাগুণের জন্য আমরা বেল খেয়ে থাকি। কারণ, বেলে আছে নানা ঔষধি গুণ, যা আমাদের দেহের অনেক উপকার করে থাকে।

বেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, এ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও পটাসিয়াম। বেলে প্রচুর পমিাণ ভিটামিন সি থাকে, যা স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে। এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা আমাদের দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সর্দি-কাশি ও ছোঁয়াচে রোগ থেকে বাঁচিয়ে রাখে। ভিটামিন এ আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে, রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। ডায়রিয়া ও আমাশয় রোগ সারিয়ে তোলে। অন্ত্রের কৃমিসহ নানা রোগজীবাণু ধ্বংস করে।

নিয়মিত বেল খেলে এর ল্যাকটিভগুণ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় এবং মুখের ব্রণ দূর করে ও ত্বক ভালো থাকে। বেল পাকস্থলীর আলসারসহ নানা সমস্যা দূর করে। বেলের উপাদান মিউকাস মেমব্রেনের গঠনে সহায়তা করে এবং চামড়ার সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে। বেলের ভিটামিন বি১ ও বি২ হূৎপিণ্ড ও লিভার ভালো রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত বেল খেলে কোলন ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়। বেলে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ, যা মুখের ব্রণ সারাতে সাহায্য করে।

যাদের পাইলস আছে, তাদের জন্য নিয়মিত বেল খাওয়া উপকারী। বেলের পুষ্টি উপাদান চোখের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অঞ্চলগুলোর পুষ্টি জোগায়। ফলে চোখ যাবতীয় রোগ থেকে রক্ষা করে। বেলের শাঁস ত্বককে সূর্যরশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে এবং ত্বকের স্বাভাবিক রং বজায় রাখে।

 

Wednesday, February 19, 2020

যে খাবারে শিশুর মেধা বাড়ে

যে খাবারে শিশুর মেধা বাড়ে
প্রতীকী ছবি
শিশুর খাবার নিয়ে প্রায়ই দুশ্চিন্তায় ভোগেন নারীরা। কেননা, সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে শিশুর জন্য সুষম খাবার জরুরি।
শিশুদের বয়সটা হচ্ছে শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশসাধনের সময়। তাই এসময় খাবার তালিকায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করতে হয়।
অনেক বাবা-মা শিশুদেরকে নিয়মিত ফল ও শাকসবজি খাওয়াতে ত্রুটি করেন না। কিন্তু এর পাশাপাশি এমন কিছু খাবার খাওয়ানো প্রয়োজন, যা তাদের মস্তিষ্কের বিকাশসাধন করবে তথা মেধা ও মনোযোগ বাড়াবে। এখানে শিশুর মেধা ও মনোযোগ বৃদ্ধি করতে পাঁচ খাবার দেয়া হল, যা ১২ মাস ও তদুর্ধ্ব বয়সের বাচ্চাকে খাওয়াতে পারবেন।
ডিম: শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশসাধন হয় উল্লেখযোগ্য হারে। এসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী একটি পুষ্টি হচ্ছে কোলাইন। মস্তিষ্কের গভীরে স্মৃতিকোষ তৈরি করতে কোলাইনের প্রয়োজন রয়েছে। ডিমের কুসুমে পর্যাপ্ত কোলাইন পাওয়া যায়। আট বছর পর্যন্ত প্রতিদিন যতটুকু কোলাইন লাগে তার প্রায় সমপরিমাণ পুষ্টি একটি ডিমের কুসুম সরবরাহ করতে পারে। ডিমে প্রচুর প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন এ ও ফোলেটও রয়েছে- এদের প্রত্যেকটিই কোষের বৃদ্ধি, বিকাশসাধন ও মেরামতে দরকার। তাই শিশু ডিমের প্রতি অ্যালার্জিক না হলে তাদেরকে প্রতিদিন ডিম খেতে উৎসাহিত করুন।
তৈলাক্ত মাছ: তৈলাক্ত মাছ অনেক উপকার করতে পারে। মস্তিষ্কের বিকাশসাধন ও স্বাস্থ্যের জন্য ওমেগা ৩ সমৃদ্ধ মাছ খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কোষের বিকাশসাধনের জন্য অন্যতম বিল্ডিং ব্লক হচ্ছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এ পুষ্টি নিউরোট্রান্সমিটার ফাংশনে ভূমিকা রেখে আচরণগত সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। কিছু গবেষণায় নিম্নমাত্রার ওমেগা ৩ এর সাথে কম মেধার যোগসূত্র দেখা গেছে এবং অন্যদিকে ওমেগা ৩ সাপ্লিমেন্টেশনে মেমোরি ফাংশন বৃদ্ধি পেয়েছিল।
হোল গ্রেন: শিশুদের সকালের নাস্তায় হোল গ্রেন (গোটা শস্য) রাখা উচিত। কার্বোহাইড্রেটে সমৃদ্ধ এই খাবার মস্তিষ্কের জ্বালানি হিসেবে গ্লুকোজ ও এনার্জির যোগান দেয়। এতে প্রচুর বি ভিটামিনও থাকে, যা নার্ভাস সিস্টেমকে সুস্থ ও পুষ্ট রাখে। অনেক গবেষণায় পাওয়া গেছে, হোল গ্রেনের ব্রেকফাস্ট শর্ট-টার্ম মেমোরি ও মনোযোগ বৃদ্ধি করতে পারে। অন্যদিকে সকালের নাশতা হিসেবে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণে এমন লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা যায়নি। হোলগ্রেনে উচ্চ পরিমাণে ফাইবারও রয়েছে, যা শরীরে গ্লুকোজ সাপ্লাই নিয়ন্ত্রণ করে।
বিনস: শিমের বিচির মতো বিচি প্রকৃতির খাবারে (বিনস) উচ্চ মাত্রায় প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায়। পিন্টো ও কিডনি বিনসে ওমেগা ৩ ফ্যাট বেশি থাকে, যা মস্তিষ্কের বৃদ্ধি ও কার্যক্রমের জন্য দরকারী। শিশুদের বিনস খাইয়ে স্কুলে পাঠালে ক্লাশরুমে মন বসবে। এছাড়া এসব খাবার তাদেরকে দীর্ঘসময় সতেজ রাখবে।
দুধ: দুধ, দই ও পনির এতটা পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার যে শিশুর ডায়েটে চোখ বন্ধ করে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। দুধ জাতীয় খাবারের প্রোটিন, বি ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি মস্তিষ্কের টিস্যু, নিউরোট্রান্সমিটার ও এনজাইমের গ্রোথের জন্য প্রয়োজনীয়। এসবকিছু মস্তিষ্কের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। আরেকটি উপকারিতা হচ্ছে, এসব খাবার ক্যালসিয়ামে সমৃদ্ধ বলে এগুলো খেলে দাঁত ও হাড় মজবুত হবে তথা সুস্থ থাকবে। শিশুদের বয়স অনুসারে বিভিন্ন মাত্রার ক্যালসিয়াম প্রয়োজন হতে পারে। আপনার শিশুকে দুই থেকে তিন ধরনের ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে চেষ্টা করুন।
বিডি প্রতিদিন/কালাম