Thursday, January 30, 2020

পেশিতে ব্যথা ও টান লাগার ঘরোয়া সমাধান

পেশিতে ব্যথা ও টান লাগার ঘরোয়া সমাধান
মাসল ক্র্যাম্প! এই শব্দ মানেই গতি রুদ্ধ, কাজ বন্ধ, যাত্রাও পণ্ড। সোজা কথায় বলতে গেলে এক্কেবারে ফুল স্টপ। অন্তত কয়েক মিনিট তো বটেই। শারীরবিজ্ঞান অনুযায়ী, আমাদের পায়ের মাসলগুলো তৈরি হয়েছে বান্ডিল বান্ডিল ফাইবার দিয়ে, যা ক্রমান্বয়ে সংকুচিত এবং প্রসারিত হয়, যাতে আমরা গতি পাই। এবার এই মাংসপেশিগুলোর কোনো একটিতে (আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে কাফ মাসলে) হঠাৎ সংকোচন হলেই মাসল ক্র্যাম্প হয়। টান ধরে। ক্র্যাম্প কখনও মৃদু হয়, আবার কখনও প্রগাঢ়। এতটাই যে, কখনও কখনও ঘুমের মধ্যে থেকেও উঠে বসতে হয়। আবার কখনও কখনও দেখা যায়, পায়ের মাংসপেশিতে আচমকা, প্রচণ্ড খিঁচুনি ধরে গেছে।
এই উপসর্গকে যাকে বেসবল খেলোয়াড় চার্লি ‘হস’ র‌্যাডবোর্নের নামানুকরণে ‘চার্লি হস’ বলে অভিহিত করা হয়। দিনের শেষে যেটাই হোক না কেন, করণীয় কী, বিস্তারিত জানান হার্ভার্ড মেডিক‌্যাল স্কুলের গবেষকরা।
কেন হয়:
প্রথম এবং সবচেয়ে ‘কমন’ কারণ হল এক্সারসাইজ। গরমে অনেকটা সময় ধরে শারীরিক কসরত করার পর মাংসপেশিতে ক্র্যাম্প ধরতে পারে। এর প্রধান কারণ অত‌্যধিক কসরতের পর মাংসপেশীগুলো এমনিতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তার উপর আবার ‘ডিহাইড্রেটেড’ বা ‘পানিশূন‌্য’ও হয়। শরীরে ম‌্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়ামজাতীয় ইলেক্ট্রোলাইটসের ঘাটতির ফলে মাসলে ক্র্যাম্প ধরে। এর পাশাপাশি গর্ভাবস্থাতেও ক্র্যাম্প ধরার প্রবণতা থাকে। তৃতীয় ফ‌্যাক্টর বয়স। বয়স বাড়লে মাংসপেশী এমনিতেই অল্পে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তার উপর আবার সেই সময় শরীরে তরল পদার্থর সামান‌্য অভাব বোধ হলেই বয়স্ক, অবসন্ন মাংসপেশিতে ক্র্যাম্প ধরে। এছাড়াও কোনও কোনও ক্ষেত্রে উচ্চ কোলেস্টরল প্রতিরোধে ব‌্যবহৃত স্ট‌্যাটিনের মতো ওষুধ সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসাবে ক্র্যাম্প হয়। এমনিতে মাসল ক্র্যাম্পে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না, কিন্তু তবু যদি ক্র্যাম্প বার বার হয় এবং প্রতিবার প্রচণ্ড টান ধরে, যা আপনাকে কার্যত অচল, অসাড় করে দেয়, সেক্ষেত্রে অবশ‌্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মাসল ক্র্যাম্প এমনি এমনিই সেরে যায়। ক্র্যাম্প থেকে মুক্তি পেতে দু’টো জিনিস করতে পারেন। এক, পা স্ট্রেচ করুন। আর দুই, যে মাসলে ব‌্যথা, হালকা হাতে সেখানে ম‌্যাসাজ করুন। প্রয়োজনে তাপ প্রয়োগ করে দেখতে পারেন। কোনও হিটিং প‌্যাড বা হট ওয়াটার ব‌্যাগ ব‌্যবহার করতে পারেন। আর ভবিষ‌্যতে ক্র্যাম্প যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রচুর পরিমাণে তরল পদার্থ গ্রহণ করুন, এক্সারসাইজ করার আগে। প্রত্যেকবার ওয়ার্ক আউট করার পর পা স্ট্রেচ করুন মিনিট কয়েকের জন‌্য। আবার শোওয়ার আগেও পা স্ট্রেচ করার অভ‌্যাস ঝালিয়ে নিতে পারেন, যাতে ঘুমের মধ্যে ক্র্যাম্প না ধরে। খুব সমস‌্যা হলে সাইক্লোবেনজাপ্রিন (ফ্লেক্সিরিল), মেটাক্সালোন (স্কেলাস্কিন) বা মেথোকার্বামোলের (রোবাক্সিন) মতো মাসল রিলাক্স‌্যান্ট ব‌্যবহার করে দেখতে পারেন।
পায়ের সব টানকেই ক্র্যাম্প ভেবে ভুল করবেন না। আর তার মতো চিকিৎসাও করাবেন না। যেমন ব‌্যয়াম, শারীরিক কসরত করতে করতে হঠাৎ কাফ মাসলে ব‌্যথা হলে তা ক্র্যাম্প না-ও হতে পারে। হতে পারে সেটা হচ্ছে আথরোক্লেরোসিসের জন‌্য হচ্ছে।
কীভাবে বুঝবেন :
যদি পায়ে ব‌্যথার সঙ্গে সঙ্গে রক্তপ্রবাহে ব্লকেজ দেখা দিয়েছে, গায়ের চামড়া ক্রমশ ফ‌্যাকাসে হয়ে পড়ছে, তবে বুঝবেন সেটা ক্র্যাম্প নয়। আবার কখনও পায়ে টান ধরার পাশাপাশি যদি তা সারহীন মনে হয়, জ্বলুনি লাগে, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসককে দেখান। হতে পারে, সেটা ডায়াবিটিসের জন‌্য হচ্ছে। আর যদি কখনও পা অস্বাভাবিক রকম ফুলে যায়, দ্রুত সাবধান হন। কারণ এই উপসর্গ হার্ট, লিভার এবং কিডনির অসুখের লক্ষণ। মনে রাখবেন, মাসল ক্র্যাম্প এমনিতে বিপজ্জনক নয়। কিন্তু হওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়মে কমে না গেলে এবং দীর্ঘ সময় ধরে সমস‌্যা তৈরি করলে সাত-পাঁচ না ভেবে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন। একমাত্র তাদের দেওয়া পরামর্শই মেনে চলুন।
বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম

Saturday, January 25, 2020

দাঁতের যত্ন নিন


দাঁত শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো জরুরি এবং অপরিহার্য একটি অঙ্গ। সুন্দর একটি হাসির জন্য সুস্থ দাঁতের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। সঠিক সময়ে দাঁতের সঠিক যত্ন ভবিষ্যতের চরম ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মুখে ২৮-৩২টি দাঁত থাকে। প্রতিটি দাঁত সঠিকভাবে পরিস্কার করার জন্য কিছু জিনিসের ওপর নজর দেওয়া উচিত। দাঁত ব্রাশ করার জন্য সঠিক ব্রাশটি নির্বাচন করুন। ১.৫-২ মিনিট ব্রাশ করার জন্য যথেষ্ট সময়। অনেকেই লম্বা সময় ধরে ব্রাশ করেন, এটা মোটেই ঠিক নয়।

প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে ও সকালে নাশতার পরে ব্রাশ করুন। খুব জোরে ব্রাশ করলে দাঁত ও মাড়ির সংযোগস্থলে দাঁতের কিছু অংশ ক্ষয় হয়ে যায়, একে ডাক্তারি পরিভাষায় 'অ্যাব্রাসন' বলে। এমন ক্ষেত্রে পরে মিষ্টি খাবার বা ঠাণ্ডা কিছু খেতে গেলে শিরশির অনুভূত হয়। ব্রাশের ব্রিসল (যেটা দাঁতের গায়ে লাগানো হয়) বাঁকা বা এবড়ো-খেবড়ো হয়ে গেলে আপনার ব্রাশটি পরিবর্তন করুন। সাধারণত ২-৩ মাস পরপর ব্রাশ পরিবর্তন করা উচিত। দুই দাঁতের মাঝে আটকে পড়া আঁশ জাতীয় খাবার বা অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য পরিস্কার করার জন্য ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করুন। 'ইন্টারডেন্টাল ব্রাশ' এটি দাঁত পরিস্কার রাখার জন্য আরও একটি চমৎকার জিনিস। দেখতে ছোট আকৃতির একটি ব্রাশ, যা আপনি পকেটে বা সঙ্গে রাখতে পারবেন। যখন স্বাভাবিক ব্রাশিংয়ের পরেও কিছু অংশ পুরোপুরি পরিস্কার হয় না, সে ক্ষেত্রে দুই দাঁতের মাঝের খাবার পরিস্কারের জন্য ইন্টারডেন্টাল ব্রাশ যথেষ্ট কার্যকরী।

একটি সঠিক মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন। তবে যে কোনো চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন। এতে আপনার মুখের ভেতরে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ইফেক্ট (ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরোধে কার্যকরী) তৈরি করে।

দাঁতের কোনো এক অংশে যদি কোনো খাদ্যকণা দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে, তাহলে সেখান থেকে খাদ্যকণা পচে গিয়ে ব্যাকটেরিয়া বসবাসের পরিবেশ তৈরি করে। স্ট্রেপটোকক্কাস, স্ট্যাফাইলোকক্কাস, ভিরিডেন্স গ্রুপ ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া ল্যাকটিক এসিড তৈরি করে, যা দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে ফেলে এবং ডেন্টাল ক্যারিস তৈরি করে। এর ফলে দাঁতে গর্ত সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে ফিলিং অথবা রুট ক্যানাল চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। তাই আগে থেকেই সচেতন হওয়া উচিত। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে 'প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কেয়ার'।

সরিষা ক্ষেতে মৌচাষ


বেনাপোল স্থলবন্দরে ‘করোনা ভাইরাস’ আতঙ্কে সতর্কতা জারি

বেনাপোল স্থল বন্দরে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা চলছে।
Jugantor News

বেনাপোল স্থল বন্দরে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা চলছে। ছবি: যুগান্তর
চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশে ‘করোনা ভাইরাস’ সংক্রমণের ফলে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। ইতিমধ্যে সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। করোনা ভাইরাসের বিষয়ে এরইমধ্যে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কড়া সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। সতর্কতা নেওয়া হয়েছে দেশের বৃহত্তর স্থলবন্দর বেনাপোলেও।
শনিবার সকাল থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আসা বিদেশি নাগরিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। আইরিশ ১ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৪ জন, কানাডার ২ ও আমেরিকার একজনসহ মোট ৮ বিদেশিকে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করেন বেনাপোল ইমিগ্রেশনে দায়িত্বরত স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ডা. হাসানুজ্জামান।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনে কর্মরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ডা. আব্দুল মজিদ জানান, চীনে করোনা ভাইরাস ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়ে অনেকে মারা গেছেন। বাংলাদেশে এ ভাইরাস যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্কতা জারি করেছে। তারা বিদেশি যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া এ ভাইরাসের লক্ষণ সম্পর্কেও সচেতন করছেন।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি খোরশেদ আলম জানান, করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি যাতে কোনো ভাবে দেশে প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সহযোগিতা করছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।

Sunday, January 5, 2020

চুল পড়া কমায় কালিজিরা

চুল পড়া কমায় কালিজিরা
ফাইল ছবি



প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষ খাবারের সঙ্গে ‘কালিজিরা’ গ্রহণ করে আসছে। কালিজিরার তেলও আমাদের শরীরের জন্য নানাভাবে উপকারি। এতে আছে প্রায় ২১ শতাংশ আমিষ, ৩৮ শতাংশ শর্করা এবং ৩৫ শতাংশ ভেষজ তেল ও চর্বি।
১. কালিজিরার তেলের উপকার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
২. কালিজিরায় থাকা অ্যান্টিমাইক্রোরিয়াল এজেন্ট শরীরের রোগ-জীবাণু ধ্বংস করে। এই উপাদানের জন্য শরীরে সহজে ঘা, ফোড়া, সংক্রামক রোগ হতে বাধা দেয়। ৩. এতে রয়েছে ক্ষুধা বাড়ানোর উপাদান। পেটের যাবতীয় রোগ-জীবাণু ও গ্যাস দূর করে ক্ষুধা বাড়ায়। যারা মোটা হতে চান, তাদের জন্য কালিজিরা উপকারী পথ্য।
৪. চুল পড়া কমাতে ও ত্বকের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে কালিজিরার তেলের তুলনা হয় না।
৫. দাঁতে ব্যথা হলে কুসুম গরম পানিতে কালিজিরা দিয়ে কুলি করলে ব্যথা কমে। জিহ্বা, তালু, দাঁতের মাড়ির জীবাণু মরে।
বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ

ঢাকার কয়েকটি স্থানে সরাসরি মেশিনের মাধ্যমে কালিজিরার ভাঙ্গিয়ে তৈল বের করা হয়। প্রয়োজন হলে ইনবক্্র করুন। প্রতি লিটার ১৬০০/- টাকা মাত্র।

Thursday, January 2, 2020

দালচিনির ভেষজগুণ

 সমকাল


দালচিনির ভেষজগুণ দালচিনির ব্যবহার শুধু মসলা হিসেবেই নয়, গাছটি চমৎকার ভেষজগুণ সম্পন্নও বটে। বিভিন্ন সমস্যায় গাছের বিভিন্ন অংশ প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। আমাশয়ে দালচিনির চূর্ণ থেকে তৈরি ২০টি বড়ির ডোজ অত্যন্ত কার্যকর। বাকল চূর্ণ করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে প্রস্তুতকৃত কস্ফাথ কপালের একপাশে লাগালে তীব্র মাথাব্যথা ও স্নায়ুর ব্যথা উপশম হয়।

রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে দালচিনি বা দারুচিনি। যারা টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাদের রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘরোয়া উপাদান হিসেবে দারুচিনি খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। এটি বেশ কার্যকর। এতে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল

উপাদান, যা পেটের ব্যাক্টেরিয়াজনিত অসুখ থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে। দারুচিনির চা, দারুচিনির তেল, দারুচিনি গুঁড়া ইত্যাদি পেটের বিভিন্ন সমস্যা থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে। পেটের ভেতরে অন্ত্রের যে কোনো অস্বস্তিকর অনুভূতি কমাতে কার্যকর দারুচিনি। তা ছাড়া যারা পেটব্যথার সমস্যায় ভোগেন, তারা যদি দিনে দুই থেকে তিন কাপ দারুচিনি চা খাওয়ার অভ্যাস করেন তাহলে উপকৃত হবেন। লিউকোমিয়া ও লিমফোমা ক্যান্সারের কোষগুলোর প্রভাব কমাতেও সাহায্য করে এই মসলা। দারুচিনিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড় গঠন, রক্ত ও শরীরের অন্যান্য কোষ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। যাদের শরীরে খনিজ উপাদানের অভাব থাকে তাদের বাত ও অস্টিওপোরোসিসের সমস্যা হতে পারে। ব্যথার স্থানে দারুচিনির তেল লাগালে উপকার পাওয়া যায়। স্মরণশক্তি বাড়াতে এই মসলা বেশ উপকারী। এতে আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরের বিভিন্ন অংশের ক্ষত সারিয়ে তুলতে বেশ কার্যকর। ওজন কমাতে খাবারের তালিকায় দারুচিনি রাখা খুবই জরুরি। কারণ, দারুচিনি রক্ত চলাচল স্বাভাবিক এবং হজমেও সাহায্য করে। কোনো কারণে পেশিতে ব্যথা হলে আহত স্থানে দারুচিনি তেল দিয়ে মালিশ করলে উপকার হয়। চুইংগাম, মিন্ট চকলেট, মাউথওয়াশ, টুথপেস্ট ইত্যাদি তৈরিতে বহুল প্রচলিত একটি উপাদান হলো দারুচিনির তেল। এই উপাদান দাঁত ও মাড়ির ক্ষতি করে- এমন ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

দারুচিনি (ঈরহহধসড়সঁস াবৎঁস) মাঝারি আকারের চিরসবুজ শাখাযুক্ত বৃক্ষ। ফুল ও ফল :মাঘ-চৈত্র। ফল সামান্য মাংসল এবং গাঢ় বেগুনি রঙের। বাকল মসলা হিসেবে ব্যবহূত হয়, আবার ঔষধি কাজেও লাগে। বীজ এবং কাটিং করে চারা উৎপাদন হয়। আদি আবাস শ্রীলংকা। তবে ভারত, মিয়ানমার, মালায়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আমেরিকায়ও বিস্তৃত।