Thursday, January 2, 2020

দালচিনির ভেষজগুণ

 সমকাল


দালচিনির ভেষজগুণ দালচিনির ব্যবহার শুধু মসলা হিসেবেই নয়, গাছটি চমৎকার ভেষজগুণ সম্পন্নও বটে। বিভিন্ন সমস্যায় গাছের বিভিন্ন অংশ প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। আমাশয়ে দালচিনির চূর্ণ থেকে তৈরি ২০টি বড়ির ডোজ অত্যন্ত কার্যকর। বাকল চূর্ণ করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে প্রস্তুতকৃত কস্ফাথ কপালের একপাশে লাগালে তীব্র মাথাব্যথা ও স্নায়ুর ব্যথা উপশম হয়।

রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে দালচিনি বা দারুচিনি। যারা টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাদের রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘরোয়া উপাদান হিসেবে দারুচিনি খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। এটি বেশ কার্যকর। এতে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল

উপাদান, যা পেটের ব্যাক্টেরিয়াজনিত অসুখ থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে। দারুচিনির চা, দারুচিনির তেল, দারুচিনি গুঁড়া ইত্যাদি পেটের বিভিন্ন সমস্যা থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে। পেটের ভেতরে অন্ত্রের যে কোনো অস্বস্তিকর অনুভূতি কমাতে কার্যকর দারুচিনি। তা ছাড়া যারা পেটব্যথার সমস্যায় ভোগেন, তারা যদি দিনে দুই থেকে তিন কাপ দারুচিনি চা খাওয়ার অভ্যাস করেন তাহলে উপকৃত হবেন। লিউকোমিয়া ও লিমফোমা ক্যান্সারের কোষগুলোর প্রভাব কমাতেও সাহায্য করে এই মসলা। দারুচিনিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড় গঠন, রক্ত ও শরীরের অন্যান্য কোষ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। যাদের শরীরে খনিজ উপাদানের অভাব থাকে তাদের বাত ও অস্টিওপোরোসিসের সমস্যা হতে পারে। ব্যথার স্থানে দারুচিনির তেল লাগালে উপকার পাওয়া যায়। স্মরণশক্তি বাড়াতে এই মসলা বেশ উপকারী। এতে আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরের বিভিন্ন অংশের ক্ষত সারিয়ে তুলতে বেশ কার্যকর। ওজন কমাতে খাবারের তালিকায় দারুচিনি রাখা খুবই জরুরি। কারণ, দারুচিনি রক্ত চলাচল স্বাভাবিক এবং হজমেও সাহায্য করে। কোনো কারণে পেশিতে ব্যথা হলে আহত স্থানে দারুচিনি তেল দিয়ে মালিশ করলে উপকার হয়। চুইংগাম, মিন্ট চকলেট, মাউথওয়াশ, টুথপেস্ট ইত্যাদি তৈরিতে বহুল প্রচলিত একটি উপাদান হলো দারুচিনির তেল। এই উপাদান দাঁত ও মাড়ির ক্ষতি করে- এমন ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

দারুচিনি (ঈরহহধসড়সঁস াবৎঁস) মাঝারি আকারের চিরসবুজ শাখাযুক্ত বৃক্ষ। ফুল ও ফল :মাঘ-চৈত্র। ফল সামান্য মাংসল এবং গাঢ় বেগুনি রঙের। বাকল মসলা হিসেবে ব্যবহূত হয়, আবার ঔষধি কাজেও লাগে। বীজ এবং কাটিং করে চারা উৎপাদন হয়। আদি আবাস শ্রীলংকা। তবে ভারত, মিয়ানমার, মালায়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আমেরিকায়ও বিস্তৃত।

No comments:

Post a Comment