সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বয়সের ছাপ মুখের ওপর জ্যামিতিক রেখা আঁকতে শুরু করে। চুলে রূপালি রেখা যেমন দেখা দেয় তেমনি চোখের আশপাশে, ঠোঁটের ভাঁজেও ধীরে ধীরে ডানা মেলতে থাকে বয়স। এই অবশ্যম্ভাবী প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দিয়ে যৌবন চিরতরে ধরে রাখার কোনো উপায় এখনও মানুষের জানা নেই কিন্তু কিছু প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই মুখের ত্বক দীর্ঘকাল কমনীয় ও মোলায়েম রাখা যেতে পারে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে কোলাজেন তৈরির স্বাভাবিক ক্ষমতা কমে আসে, ফলে ত্বক বুড়িয়ে যেতে শুরু করে
মুখে বয়সের ছাপ কেন পড়ে
ত্বকে কোলাজেন নামে একটি
যৌগ থাকে, যা ত্বককে টানটান, কোমল রাখে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে
কোলাজেন তৈরির স্বাভাবিক ক্ষমতা কমে আসে, ফলে ত্বক বুড়িয়ে যেতে শুরু করে।
পাশাপাশি নানা বাহ্যিক কারণেও ত্বক খারাপ হয়ে যেতে পারে। খুব বেশি রোদে
থাকলে, প্রাকৃতিক দূষণ, পানি কম পান করলে, ধূমপান-মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে,
মানসিক চাপ বা পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবেও ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি মুখের
নানা ভঙ্গিমা, ঘুমের সময় বালিশের কারণেও ত্বকে বলিরেখা, দাগছোপ দেখা দিতে
পারে।
কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ত্বকের চিকিৎসায় খুবই কার্যকরী
ডাক্তারের ছুরি-কাঁচি বা বোটক্সের মতো রাসায়নিক ব্যবহার না করেও কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ত্বকের চিকিৎসায় খুবই কার্যকরী। কিন্তু এ উপাদানগুলো ত্বকে নিয়মিত ব্যবহার করলে এটি কার্যকর হতে বেশ সময় নেবে। হয়তো ত্বকে এর উপকারীতার প্রভাব পড়তে কয়েক মাসও লাগতে পারে। দ্রুত ফলের আশা না করে বরং প্রাকৃতিক উপাদানগুলো নিয়মিত ত্বকে ব্যবহার করুন।
কিছু উপকারী উপাদান আছে যেগুলো ত্বকের বয়স আটকে রাখবে
এক নজরে যে উপাদানগুলো ত্বকের বয়স আটকে রাখবে
- বলিরেখার জন্য: রেটিনল, ভিটামিন সি
- ত্বক ঝুলে যাওয়া জন্য: পেপটাইড, সিরামাইড
- বয়স্ক দাগের জন্য: হাইড্রোকুইনোন, রেটিনয়েডস, ভিটামিন সি, কোজিক অ্যাসিড
- ত্বকের মৃত কোষ সরাতে: আলফা হাইড্রক্সি এসিড (এএইচএএস), রেটিনয়েডস
- নিস্তেজ ত্বকের জন্য: আলফা হাইড্রক্সি এসিড (এএইচএএস), রেটিনয়েডস
যখন বয়স বাড়ে তখন ত্বকের কোষের কার্যক্ষমতা কমে যায়
বলিরেখার কারণ
যখন বয়স বাড়ে তখন ত্বকের কোষের
কার্যক্ষমতা কমে যায়। জৈবিক ক্ষমতা হ্রাস পায়। বয়স হলে এনজাইম কাজ করা বন্ধ
করে দেয়। স্বাভাবিক ত্বকের যে রেখাগুলো থাকে, এগুলো অতি সূক্ষ্ম, দেখা যায়
না। যখন এটি স্পষ্ট হয়ে যায়, ত্বকের লেভেল থেকে অনেকটা ভেতরের দিকে যায়,
তখন এটি স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হয়। একে সংজ্ঞায়িত করা হয় বলিরেখা হিসেবে।
আমরা বলি রিংকেল স্কিন।
বলিরেখা রোধ করতে করণীয়
বলিরেখা রোধ করতে রেটিনল ও
ভিটামিন সি উপকারী। রেটিনল মূলত ভিটামিন এ থেকে তৈরি। ত্বকের বলিরেখা দূর
করতে, টেক্সচার ঠিক করতে, দাগ কমাতে এবং ত্বক পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
সাধারণত গাঢ় সবুজ বা হলদে সবুজ রঙের ফল এবং সবজিতে ভিটামিন এ বেশি পাওয়া
যায়। যেমন পালং শাক, মিষ্টি কুমড়া, মিষ্টি আলু, গাজর ও আমে প্রচুর পরিমাণে
ভিটামিন এ থাকে।
বলিরেখা রোধ করতে ভিটামিন সি উপকারিতা অনেক
বলিরেখা রোধ করতে ভিটামিন সি উপকারিতা অনেক। ভিটামিন সি ত্বক উজ্জ্বল এবং লাবণ্যময় করে তোলে। যার কারণে ত্বকের যেকোন সমস্যা সমাধানে এটি টনিকের মতো কাজ করে। প্রধানত ফল ও কাঁচা সবজি হচ্ছে ভিটামিন সি’র মূল উৎস। লেবু, কমলা, পেয়ারা, ব্রকোলি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকে।
কিছু প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে মুখের ত্বক দীর্ঘকাল কমনীয় ও মোলায়েম রাখা যেতে পারে
ত্বক ঝুলে পড়ার কারণ
ত্বকে বয়সের ছাপ বাড়াতে ত্বক
ঝুলে পড়া অন্যতম। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যেমন- ক্যারোটিনয়েডস, টোকোফেনলস এবং
ফ্ল্যাভোনয়েডস, পাশাপাশি ভিটামিন (এ, সি, ডি এবং ই) এবং প্রয়োজনীয়
ওমেগা -থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডগুলো ত্বকের ঝুলে পড়া হ্রাস করতে সাহায্য করে।
এছাড়া ঝুলে পড়ার অন্যতম কারণ পেপটাইড ও সিরামাইড। এটি ত্বকে প্রাকৃতিকভাবে
ঘটে যাওয়া একটি লিপিড। সিরামাইড ত্বকের উপরিভাগে জলরোধী বাধা তৈরি করে।
ফলে ত্বক শুষ্ক, বলিরেখা এবং ত্বকের কিছু প্রদাহ সৃষ্টি করে।
ত্বক ঝুলে পড়া রোধ করতে করণীয়
ভারতের ন্যাশনাল
স্কিন কেয়ার সেন্টার ত্বক যেন ঝুলে না পড়ে সে জন্য কিছু মাস্ক ব্যবহার করা
যেতে পারে বলে জানিয়েছে। এগুলো হলো স্ট্রবেরির মাস্ক, শসা ও অ্যাভোকাডোর
মাস্ক, টক দই ও ডিমের সাদা অংশের মাস্ক, চালের গুঁড়ার মাস্ক এবং পেঁপের
মাস্ক।
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ত্বক শুষ্ক, বলিরেখা এবং ত্বকের কিছু প্রদাহ সৃষ্টি করে
ত্বকের বয়সের দাগ হলে কী করবেন
ত্বকের বয়সের দাগ
যাতে না হয় সেজন্য হাইড্রোকুইনোন আছে এরকম পণ্য নিরাপদে ব্যবহার করা যেতে
পারে। ত্বকের যেসব স্থানে কালো দাগ পড়ে গেছে সেগুলো এর মাধ্যমে চিকিৎসা
করা যায় এবং তাতে ভালো ফল পাওয়াও সম্ভব- এমনটা বলেছে ব্রিটিশ স্কিন
ফাউন্ডেশন। আর কজিক এসিড জাপানে রাইস থেকে আবিস্কৃত হয়েছে। এসিড শুনে ভয়
পাওয়ার কিছু নেই, কজিক এসিড একটি প্রাকৃতিক এসিড। কজিক এসিড ত্বকের রোদ এ
পোড়া ভাব দূর করে এবং মেলানিন তৈরিতে বাধা দেয়। অন্যদিকে অ্যান্টি-এজিং
স্কিনকেয়ার-এ অতি কার্যকরী রেটিনয়েড বা রেটিনল ক্রিম।
ভিটামিন-সি উপাদানগুলো ব্যবহারের সঠিক সময় সকালবেলা
কখন ব্যবহার করবেন
ভিটামিন-সি উপাদানগুলো ব্যবহারের
সঠিক সময় সকালবেলা। অন্যগুলো যেমন- রেটিনল রাতে ব্যবহার করবেন। কারণ,
দিনের আলো এটির কার্যকারীতা কমিয়ে দিতে পারে। যদি আপনি শুষ্ক ত্বক কিংবা
নিজেকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে চান, তাহলে প্রতিদিন ক্রিম ব্যবহার করুন।
ভালো মানের ক্রিম আপনার ত্বককে আরও কোমল করে তুলবে।
রাতে ঘুমানোর পূর্বে প্রথমে রেটিনল এবং শেষে ক্রিম ব্যবহার করুন
যেভাবে ব্যবহার করবেন
সকালে সবার আগে ভিটামিন-সি
প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন। এরপর সানস্ক্রিন এবং সবশেষে মেকআপ। আর রাতে
ঘুমানোর পূর্বে প্রথমে রেটিনল এবং শেষে ক্রিম ব্যবহার করুন। অন্যদিকে চোখের
চারপাশের ত্বক সবচেয়ে কোমল ও সংবেদনশীল। বয়সের ছাপ তাই সবার আগে চোখের
চারপাশেই পড়ে। চোখের নিচে বয়সের আঁকিবুকি ঠেকাতে তাই প্রতিদিন রাতে
ঘুমানোর আগে যাওয়ার আগে ভালো আন্ডার আই ক্রিম লাগিয়ে নেবেন।

No comments:
Post a Comment